বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে বিদেশ যেতে যাচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট বানানোর নিয়ম কি। তাই, পাসপোর্ট বানানোর প্রয়োজন পড়লেই অনেকে দ্বিধান্বিত হয়ে যায়। কিভাবে আবেদন করতে হবে? কাগজপত্র কী কী লাগবে? কত টাকা লাগবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কেউ কেউ পড়েন দালালের খপ্পরে।
যাইহোক, পাসপোর্ট নিয়ে আর নয় দুঃচিন্তা! আজকে পাসপোর্ট বানানোর পূর্ণাঙ্গ উপায় একদম সহজ ভাষায় লিখা এই হবে এই ব্লগে। এই আর্টিকেলটি পড়লেই আপনি জানতে পারবেন, বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট বানানোর পূর্ণাঙ্গ নিয়ম কানুন।
পাসপোর্ট বানাতে কি কি কাগজ লাগে?
পাসপোর্ট বানানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যদি সব ডকুমেন্ট ঠিকঠাক থাকে, তাহলে পাসপোর্ট পেতে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু কোনো কাগজে সমস্যা থাকলে ঝামেলায় পড়তে হবে। তাই, আগে থেকেই সবকিছু গুছিয়ে রাখা ভালো।
এখানে ধাপে ধাপে পাসপোর্ট তৈরী করতে কী কী কাগজ বা ডকুমেন্ট লাগবে তা বর্ণনা করা হলো –
পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন
- ১৮ বছরের বেশি হলে NID (জাতীয় পরিচয়পত্র) লাগবে।
- ১৮ বছরের নিচে হলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদন করতে হবে।
- NID-এর তথ্য ভুল থাকলে পাসপোর্টেও ভুল আসবে!
- অনলাইন থেকে NID চেক করতে লগইন করুন services.nidw.gov.bd এই ওয়েবসাইটে।
২. ঠিকানার প্রমাণ (Address Verification)
- নিজ নামে বিদ্যুৎ / গ্যাস / পানির বিল থাকলে ভালো।
- যদি নিজের নামে না থাকে, তাহলে বাবা/মার নামে বিল দিলেও চলবে।
- ঠিকানা অবশ্যই NID এর সাথে মিলতে হবে, না হলে পাসপোর্ট হতে দেরি হবে।
৩. বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কপি
- ১৮ বছরের কম বয়সী হলে বাবা মায়ের NID লাগবে।
- অনেকে ভাবে এটা দরকার নেই, কিন্তু আবেদন ফর্ম পূরণের সময় তথ্যের মিল থাকতে হয়।
৪. ফি জমার রসিদ
- পাসপোর্টের জন্য নির্দিষ্ট টাকা অনলাইনে বা ব্যাংকে জমা দিতে হয়।
- পেমেন্ট হলে একটি রিসিপ্ট দেওয়া হবে, সেটা অবশ্যই প্রিন্ট করে জমা দিতে হবে।
৫. সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি (NOC)
- যদি সরকারি চাকরিজীবী হন, তাহলে এনওসি (No Objection Certificate) লাগবে।
- অফিস থেকে সঠিকভাবে এনওসি সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে।
৬. শিক্ষার্থীদের জন্য কাগজপত্র
- স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড বা সার্টিফিকেট লাগবে।
- কোনো শিক্ষার্থী যদি ১৮ বছরের কম হয়, তাহলে বাবা-মায়ের কাগজপত্র NID (জাতীয় পরিচয়পত্র) ঠিক থাকতে হবে।
৭. পূর্বের পাসপোর্ট (রিনিউ বা সংশোধনের জন্য)
- যদি আগের পাসপোর্ট থাকে, তাহলে সেটির কপি লাগবে।
- যদি আগের পাসপোর্ট হারিয়ে যায়, তাহলে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) কপি জমা দিতে হবে।
৮. বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে
প্রবাসীদের জন্য:
- বৈধ ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের কপি।
- বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে সেটির কপি।
নাম বা তথ্য সংশোধনের জন্য:
- নামের ভুল থাকলে নাম সংশোধনের অ্যাফিডেভিট (নোটারি) দরকার হবে।
- বিবাহিত হলে নাম পরিবর্তন করতে বিয়ের কাবিননামা লাগতে পারে।
এই কাগজপত্রগুলো ঠিক থাকলে, পাসপোর্ট করতে কোনো ঝামেলা হবে না!
পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করবেন যেভাবে
পাসপোর্টের জন্য ফর্ম পূরণ করতে পারবেন দুইভাবে—একটা হলো অনলাইনে, অন্যটি হচ্ছে ফর্ম ডাউনলোড করে হাতে লিখে।
অফলাইনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ
যারা হাতে লিখে আবেদন করতে চান, তারা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস থেকে ফর্ম নিয়ে আসতে পারেন। অনেক সময় ফর্ম শেষ হয়ে গেলে, পাশে থাকা ফটোকপির দোকান থেকেও ফর্ম পাওয়া যায়। এছাড়া চাইলে www.passport.gov.bd থেকে DIP Form 1 ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারেন।
ফর্ম হাতে নিয়ে শান্তভাবে পূরণ করবেন, যেন ভুল না হয়। কপি ফটোকপি করে রাখলে ভালো হয়, যাতে প্রয়োজনে আবার ব্যবহার করা যায়। সব তথ্য স্পষ্টভাবে লিখবেন, যাতে পরে কোনো সমস্যা না হয়।
ফর্ম জমা দেওয়ার সময় পাসপোর্ট ফি জমার রসিদও জমা দিতে হবে।
অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ
অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে www.passport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে “Apply Online” অপশন ক্লিক করুন। এরপর—
- জেলা ও থানা নির্বাচন করুন
- ইমেইল ও ফোন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন
- ফর্মের প্রতিটি ধাপ মনোযোগ দিয়ে পূরণ করুন
নাম লেখার নিয়ম:
- আপনার নাম যদি এক শব্দের হয়, তাহলে শুধু Surname অংশ পূরণ করুন।
- নাম দুই বা তার বেশি হলে, Given Name এবং Surname ভাগ করে লিখুন।
- ডট (.), কমা (,), বা হাইফেন (-) দেওয়া যাবে না।
ঠিকানা লেখার নিয়ম:
- পুরো ঠিকানা দিতে হবে (যেমন: গ্রাম, পোস্ট অফিস, থানা, জেলা)।
- শহরের ঠিকানা হলে City/Village/House এবং Road/Block/Sector পূরণ করুন।
- গ্রামের ঠিকানায় শুধু Village/House অংশ দিলেই হবে, Road/Block/Sector লাগবে না।
পরিচয়পত্র (ID Documents) নির্বাচন:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম সনদ (BRC) ব্যবহার করতে হবে।
- যদি আগের কোনো পাসপোর্ট থাকে, সেটার তথ্য অবশ্যই দিতে হবে।
বাবা-মায়ের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক:
- Parental Information-এ শুধু নাম দিলেই হবে, NID না দিলেও চলবে।
- Guardian Information শুধুমাত্র লিগ্যাল গার্ডিয়ান থাকলে দিতে হবে।
বিবাহিত হলে Spouse Information দেওয়া লাগবে:
- কাবিননামা, স্বামী/স্ত্রীর নাম ও তথ্য জমা দিতে হবে।
জরুরি যোগাযোগ (Emergency Contact) অংশ:
- যেকোনো আত্মীয় বা পরিচিত কারো নাম দিতে পারেন।
- এটা কোনো ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না।
পাসপোর্টের ধরন ও ফি নির্ধারণ:
- নরমাল, জরুরি, সুপার এক্সপ্রেস – যে ফরম চান, সেটি নির্বাচন করুন।
- নির্বাচিত ধরন অনুযায়ী ফি পরিশোধ করতে হবে।
এপয়েন্টমেন্ট ও জমাদানের নিয়ম:
- ঢাকার বাইরে সাধারণত এপয়েন্টমেন্ট লাগে না।
- ঢাকায় এপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আবেদন জমা দেওয়া যায় না।
- যদি নরমাল সিস্টেমে এপয়েন্টমেন্ট না পান, তাহলে জরুরি বা এক্সপ্রেস আবেদন করুন।
- সুপার এক্সপ্রেস আবেদন করলে এপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই জমা দেওয়া যাবে।
সাবমিট করার আগে চেক করুন:
- সব তথ্য ঠিক আছে কিনা কয়েকবার দেখে নিন।
- একবার সাবমিট করলে তথ্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
সাবমিট করার পর:
- সামারি ডাউনলোড করুন ও প্রিন্ট করুন।
- ফর্মের শেষ পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর ও তারিখ দিন।
ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে, চাইলে দেখে নিতে পারেন। তবে সতর্ক থাকবেন, যেন সব তথ্য সঠিকভাবে দেন।
নোট:
- সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ফর্ম নিতে পারেন, তবে সময় বাঁচাতে ফটোকপির দোকান থেকে সংগ্রহ করলেও সমস্যা নেই।
- DIP Form 1 অনলাইনে ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে পারেন।
- সব তথ্য ঠিকঠাক দেবেন, ভুল হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
এইভাবে সহজ ভাষায় লিখলে সবার জন্য বুঝতে সুবিধা হবে।
পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট ফি নিচের মতো হবে—
৪৮ পৃষ্ঠার, ৫ বছরের মেয়াদ
- সাধারণ (২১ দিন) ➝ ৪,০২৫ টাকা
- জরুরি (১০ দিন) ➝ ৬,৩২৫ টাকা
- অতীব জরুরি (২ দিন) ➝ ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠার, ১০ বছরের মেয়াদ
- সাধারণ ➝ ৫,৭৫০ টাকা
- জরুরি ➝ ৮,০৫০ টাকা
- অতীব জরুরি ➝ ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠার, ৫ বছরের মেয়াদ
- সাধারণ ➝ ৬,৩২৫ টাকা
- জরুরি ➝ ৮,৬২৫ টাকা
- অতীব জরুরি ➝ ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠার, ১০ বছরের মেয়াদ
- সাধারণ ➝ ৮,০৫০ টাকা
- জরুরি ➝ ১০,৩৫০ টাকা
- অতীব জরুরি ➝ ১৩,৮০০ টাকা
মনে রাখবেন,
- সব ফি’র সাথে ১৫% ভ্যাট যুক্ত হবে।
- ১৮ বছরের কম আর ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা শুধু ৫ বছরের পাসপোর্ট পাবেন।
- অতি জরুরি পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট লাগবে।
এই তথ্য মাথায় রেখে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট আবেদন করুন!
পাসপোর্ট তৈরীর জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
পাসপোর্ট আবেদন জমা দেওয়ার ৩-৭ দিনের মধ্যে আপনাকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য ডাকা হতে পারে। পুলিশ আপনার বাসায় আসতে পারে, তাদের অফিসে যেতে বলতে পারে বা অন্য কোথাও দেখা করতে বলতে পারে। কী কী কাগজপত্র লাগবে, তা নির্ভর করবে আপনার এলাকা, বয়স, পেশা আর তদন্তকারী কর্মকর্তার উপর।
পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে যে ডকুমেন্টগুলো লাগতে পারে:
- NID বা জন্ম সনদ (BRC)
- নাগরিক সনদ
- ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি/ইন্টারনেট বিল)
- পেশাগত প্রমাণ (যেমন অফিসের আইডি কার্ড, চাকরির নিয়োগপত্র, ব্যবসার লাইসেন্স)
- বাবা/মায়ের NID (সব ক্ষেত্রে লাগে না)
- জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল (বিশেষ করে ঢাকায় লাগে, জেলা পর্যায়ে সাধারণত লাগে না)
বাবা-মায়ের NID সবসময় লাগে না, তবে ঢাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল বেশি চাওয়া হয়। পুলিশ আপনাকে ফোন করে জানাবে কী কী ডকুমেন্ট লাগবে, তাই দুশ্চিন্তা করবেন না।
স্থায়ী ঠিকানা আর বর্তমান ঠিকানা আলাদা হলে কী হবে?
- যদি স্থায়ী ঠিকানা আর বর্তমান ঠিকানা আলাদা হয়, তাহলে দুই জায়গায় ভেরিফিকেশন হবে।
- একই ঠিকানা হলে এক জায়গাতেই ভেরিফিকেশন হবে।
ঘুষ চাওয়া হলে কী করবেন?
পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সময় অনেকের অভিযোগ থাকে যে পুলিশ ঘুষ চায়। আপনি যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হন, কোনোভাবেই টাকা দেবেন না।
আপনার সব ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে পুলিশ আপনাকে পাসপোর্ট দিতেই বাধ্য। অফিসার চাইলে রিপোর্ট জমা দিতে দেরি করতে পারে, কিন্তু নেগেটিভ রিপোর্ট দিতে পারবে না।
অনেকে পুলিশ টাকা চাওয়ার আগেই দিয়ে দেয়, তাই তারা সুযোগ পায়। একটু সচেতন হলে এই অন্যায় বন্ধ করা সম্ভব।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের পরে কী করবেন?
২-৩ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেঞ্জ হওয়ার কথা। না হলে:
- তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন।
- যদি ২ সপ্তাহ হয়ে যায়, কিন্তু স্ট্যাটাস পেন্ডিং থাকে, তাহলে DSB অফিসে যান।
- মেসেজ পেলেও স্ট্যাটাস পেন্ডিং থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন, না হলে প্রসেস আটকে থাকবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে গেলে, আপনার সব কাজ শেষ! এরপর শুধু অপেক্ষা পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য।
বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিস
পাসপোর্ট করতে হলে আমাদের পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়। কিন্তু অনেকে জানে না কোথায় পাসপোর্ট অফিস আছে, কখন খোলা থাকে, কীভাবে আবেদন করতে হয়, কোন অফিসে গেলে সুবিধা বেশি পাওয়া যাবে ইত্যাদি। তাই সব কিছু স্টেপ বাই স্টেপ বুঝিয়ে দিচ্ছি।
বাংলাদেশে কত ধরনের পাসপোর্ট অফিস আছে?
বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের পাসপোর্ট অফিস আছে—
১। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস (Regional Passport Office)
২। ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট অফিস (Diplomatic Passport Office)
- সাধারণ নাগরিকদের জন্য আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়।
- সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশি দূতাবাসের কর্মচারী বা বিশেষ শ্রেণির নাগরিকদের জন্য ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট অফিস।
বাংলাদেশে প্রধান পাসপোর্ট অফিস কোথায়?
ঢাকা সদর দফতর (মহাখালী) – প্রধান অফিস
ঠিকানা: বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, আগারগাঁও, ঢাকা।
সময়: সকাল ৯:০০ – বিকেল ৫:০০ (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বন্ধ)।
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস (যারা ঢাকার বাইরে থাকে)
বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস রয়েছে। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অফিস হলো—
চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিস – আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
খুলনা পাসপোর্ট অফিস – বয়রা, খুলনা।
রাজশাহী পাসপোর্ট অফিস – লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী।
সিলেট পাসপোর্ট অফিস – উপশহর, সিলেট।
বরিশাল পাসপোর্ট অফিস – নথুল্লাবাদ, বরিশাল।
রংপুর পাসপোর্ট অফিস – জাহাজ কোম্পানি মোড়, রংপুর।
ময়মনসিংহ পাসপোর্ট অফিস – গঙ্গা দাস গুপ্ত রোড, ময়মনসিংহ।
এছাড়াও প্রত্যেক বিভাগের জেলা পর্যায়ে পাসপোর্ট অফিস রয়েছে।
পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময়সূচি (Opening Hours)
রবি – বৃহস্পতিবার: সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০
শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ
রেগুলার লাঞ্চ ব্রেক: দুপুর ১:০০ – ২:০০
শেষকথা
বাংলাদেশে পাসপোর্ট বানানো এখন সহজ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা যায়। অনলাইনে আবেদন, ফি পরিশোধ, এবং নির্দিষ্ট সময়ে বায়োমেট্রিক প্রদান করে সহজেই পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যায়। নিয়ম মেনে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। পাসপোর্ট নবায়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও অনলাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সুবিধাজনক। ভ্রমণ বা আন্তর্জাতিক কাজের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই সময়মতো পাসপোর্ট তৈরি বা নবায়ন করা উচিত।
প্রশ্ন-উত্তর
পাসপোর্ট তৈরির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আবেদনকারীর স্বাক্ষর, এবং বিদ্যমান পাসপোর্ট (যদি থাকে) প্রয়োজন হয়। এছাড়া, ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি প্রয়োজন।
প্রথমে www.passport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর নির্ধারিত আবেদন ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। আবেদন ফি জমা দিয়ে নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক ও ছবি তোলার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ১৫-৩০ দিন এবং জরুরি (এক্সপ্রেস) পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৭-১০ দিন সময় লাগে। তবে এটি নির্ভর করে আবেদন প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাইয়ের উপর।
পুরাতন পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে পুরাতন পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, এবং নতুন ছবি। ফি পরিশোধ করে বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।