আপনি অনলাইনে আয় করতে ইচ্ছুক? তবে, ব্যাক্তিগত ডেক্সটপ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নেই বলে মনোকষ্টে অনলাইনে আয়ের চিন্তা বহু আগেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়েছেন। হতাশ হবেন না! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই যে, আপনি আপনার অ্যানড্রয়েড মোবাইল খানা ব্যবহার করেই অনলাইনে আয় করতে পারবেন। কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো? এই আর্টিকেলে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার উপায় সমূহের মধ্যে ৫টি সহজ ও নিশ্চিত কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে অনলাইনে টাকা আয় করা যায়?
অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে একটি ব্যক্তিগত ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে তাতে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে আয়।
বর্তমান বিশ্বের অগণিত সংখ্যক মানুষ এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে শুধুমাত্র স্বাবলম্বীই হচ্ছেন না, বলা যায় অন্য যে কোনো পেশার চাইতে বহুগুণে বেশি সংখ্যক টাকা আয় করছেন। আপনিও একটু চেষ্টা করলেই তাদের একজন হতে পারবেন।
তবে আসুন একটু জেনে নেয়া যাক-
কিভাবে ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করা যায়?
আপনি ইচ্ছে করলে ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে বাড়তি টাকা খরচ করে ডেক্সটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটার কেনার প্রয়োজন নেই।
অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের ডিফল্ট গুগল ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং স্পেস কিনে তাতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিন।
এরপর ওয়ার্ডপ্রেস.কম এ গিয়ে একটি ইউজার একাউন্ট তৈরি করে নিলেই হবে।
আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে জেটপ্যাক প্লাগইন ইনস্টল করুন। জেটপ্যাক প্লাগইনকে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর ইউজার এর তথ্যাদি দিয়ে এক্টিভ করে নিন।
এরপর, গুগল প্লেস্টোর থেকে ওয়ার্ডপ্রেস এর অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ইন্সটল করে ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাপস এ লগইন করার পর আপনি সাইট লিষ্ট এর মধ্যে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটি দেখতে পারবেন।
ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাপস একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। আপনি এই অ্যাপসটি ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইটে নতুন পোস্ট পাবলিশ করা থেকে শুরু করে, এডিট, পোস্ট মুছে ফেলা, ছবি বা মিডিয়া ফাইল আপলোড করা, সর্বোপরি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট তৈরি, অ্যাড প্লেসমেন্ট, অ্যাফিলিয়েট লিংক প্লেসমেন্ট অর্থাৎ যাবতীয় সব ধরনের কাজ অবলীলায় করতে পারবেন।
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয়টা হবে কেমন করে?
আপনার ওয়েবসাইটে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করতে থাকুন। অন্তত ৩০টি ভালো মানের লেখা প্রকাশ করুন। মোটামুটি ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে একটা সময় লক্ষ্য করবেন আপনার সাইটে ভিজিটর আসা শুরু হয়েছে।
এবার আপনি নিশ্চিন্তে গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে পারেন। আপনার আর্টিকেল গুলো যদি মৌলিক হয়ে থাকে অর্থাৎ কোন উৎস থেকে চুরি করা না হয়ে থাকে এবং আপনার সাইটটি গুগল এডসেন্স এর কোন পলিসির লংঘন না করে থাকে তবে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, আপনি ২ সপ্তাহের মধ্যে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পেয়ে যাবেন।
এরপর আর কি?
আপনার সাইটে অ্যাডসেন্স এর অটো অ্যাডস কোড অ্যাড ইনসারটার প্লাগইন এর মাধ্যমে “Header” এর মধ্যে বসিয়ে দিন।
নিয়মিত ভালো কিছু লেখা প্রকাশ করতে সক্ষম হলে একটু একটু করে যেমন ওয়েবসাইটের আর্টিকেলের সংখ্যা বাড়বে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে ভিজিটর এর সংখ্যাও।
মনে রাখবেন, ওয়েবসাইটে যত বেশি ভিজিটর আনতে সক্ষম হবেন, অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে আপনি তত বেশি টাকা আয় করতে পারবেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার উপায়
আপনি ইচ্ছে করলে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের পণ্য নিজের ওয়েবসাইট, ব্লগ বা ফেসবুকে প্রচার বা বিক্রির ব্যবস্থা করেও অনলাইনে টাকা আয় করতে পারবেন। বর্তমান বিশ্বে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার পদ্ধতি খুবই জনপ্রিয় এবং লাভজনক একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
আপনি নিশ্চয়ই amazon.com এর নাম শুনেছেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইকমার্স কোম্পানি হচ্ছে এই অ্যামাজন। শুধু তাই নয়। অ্যামাজন অনলাইনে যে কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তাদের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে রেজিস্ট্রেশন করে কমিশন ভিত্তিক আয় করার সুযোগ দিচ্ছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের লক্ষাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তথা উদ্যোক্তারাও এতে অংশগ্রহণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতি মাসে আয় করে নিচ্ছেন। তারা যদি সক্ষম হতে পারেন, তবে আপনি কেন পারবেন না। একটু চেষ্টা করে দেখুন না কেন?
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার জন্য করণীয়
- অ্যামাজন বা এই ধরণের অন্যান্য অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে অ্যাফিলিয়েট লিংক বা ব্যানার কোড কপি করে আপনার ব্লগ, ওয়েব সাইট বা সোস্যাল মিডিয়ায় তা প্রচার করুন।
- অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে কতজন ব্যক্তি আপনার প্রচার করা পণ্য কিনেছেন তার হিসেব রাখুন।
- অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে আয় করা টাকা কিভাবে উত্তোলন করবেন তা নির্ধারন করার জন্য Payment Method অংশে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা Payoneer (Amazon Associate Program এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য), PayPal একাউন্টের তথ্য দিন।
- অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা জমা হলে (নূন্যতম ১০০ ডলার) নিজের একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নিন।
ফেসবুকে ইকমার্স ব্যবসা করে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার উপায়

বর্তমানে ফেসবুক কেন্দ্রিক ইকমার্স ব্যবসার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। হবেই বা না কেন? মোটামুটি ইন্টারনেট চালনায় সক্ষম প্রতিটি ব্যক্তিই এখন দিনের অনেকটা সময় ফেসবুক ব্রাউজিং, চ্যাটিং প্রভৃতি কাজে ব্যয় করেন। আর একারনেই ফেসবুক এখন ইকমার্স ব্যবসার জন্য সবচাইতে আদর্শ প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
ফেসবুকে ইকমার্স ব্যবসার সুবিধা
- পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের প্রয়োজনে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য ২৪ ঘন্টা Open Shop খোলার সুবিধা।
- ক্রেতা খুঁজে বের করার কষ্ট কম হয়। কারণ ফেসবুকের অগণীত ব্যবহারকারীদের দৃষ্টিসীমায় আপনার পণ্যের বিবরণ তুলে ধরার জন্য ফেসবুক বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।
- প্রয়োজনে অল্প কিছু টাকা খরচ করে ফেসবুক অ্যাডস সার্ভিস চালু করে আপানার কাঙ্খিত গ্রাহকদের মোবাইল স্ক্রীণে আপনার বিক্রিত পণ্যের ছবি ও বিবরণ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পৌছে দিতে পারবেন। এতে করে খুব দ্রুতই আপনার ব্যবসার সেলস বৃদ্ধি করা সম্ভব।
- সরাসরি ক্রেতা-বিক্রেতা মেসেঞ্জারে কথা বলে পণ্য সংশ্লষ্টি সবকিছু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
- ফেসবুক পেমেন্টস অ্যাপ ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে অনলাইনে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।
ফেসবুকের এই জনপ্রিয়তাকে আপনিও আপনার কাজে লাগিয়ে অনলাইনে আয়ের একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করে নিতে পারেন। এর জন্য আপনাকে যে খুব একটা পরিশ্রম করতে হবে তেমনও নয়। শুধু চাই একটি উদ্ভাবনী ক্ষমতা, ব্যবসায়িক বুদ্ধি, একটি স্মার্টফোন, আর একটু প্রযুক্তি জ্ঞান।
প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিন ফেসবুকে আপনি কি ধরণের ব্যবসা করতে ইচ্ছুক? এরপর আপনার ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করুন। আপনার ফেসবুক পেজে নিয়মিত বিক্রি করতে ইচ্ছুক পণ্যের ছবি আপলোড করে সেই পণ্যের বিবরণ, ক্রয় মূল্য, টাকা পরিশোধের নিয়ম, বিক্রয় পরবর্তী সেবা প্রভৃতির বিস্তারিত তথ্য দিন।
প্রয়োজনে আপনার পণ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিভন্ন ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়ে সেখানে অন্যন্য ব্যবহারকারীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে তাদের জানানোর চেষ্টা করুন ও পন্য কিনতে উৎসাহিত করুন।
এইভাবে নিয়মিত পণ্যের ছবি আপলোড করে ব্যবসার পরিধির বিস্তৃত করার চেষ্টা করলে একটা সময়ে অবশ্যই প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন। এবং সেটা শুধমাত্র আপনার মোবাইল ব্যবহার করেই।
বিস্তারিত জানতে পড়ুন-
ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার উপায়
ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন অথচ ইউটিউব এর নাম শোনেনি এমন ব্যবহারকারী এখন আর খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনি ইচ্ছে করলে খুব সহজেই মোবাইল দিয়ে ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।
স্মার্টফোন দিয়ে বর্তমানে অনেক ভালো মানের ভিডিও রেকর্ড করা যায়। আপনার নিজের ভালো লাগার মতো এমন কিছু নিয়মিত ভিডিও করে সংগ্রহে রাখার অভ্যাসও হয়ত আপনার আছে। মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার জন্য -ব্যাস এইটুকুই যথেষ্ঠ।
কোথাও বেড়াতে গিয়েছেন! সেখানকার দর্শনীয় কোন স্থানের ভিডিও ফুটেজ তৈরি করে ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করে তাতে আপলোড করে দিন।
রাস্তাতে যাতাযাত করার সময় কোন হৃদয়স্পর্শী ঘটনার স্বাক্ষী হয়েছেন। ভিডিও করে ফেলুন। এরপর ইউটিউবে আপলোড করুন।
ঠিক এই ধরণের অনেক কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের চারপাশে। মোবাইল দিয়ে ভিডিও করুন। ইউটিউবে আপলোড করুন। এরপর ডেসক্রিপশন বক্সে ভিডিওগুলোর তথ্যসমূহ সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখে রাখুন।
এভাবে নিয়মিত ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করতে থাকলে একটা সময়ে লক্ষ করবেন- আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার খুব দ্রুত ১০০০+ হয়েছে। এবং, একই সাথে আপনার চ্যানেলের Watch Time ৪০০০ ঘন্টার সীমারেখা অতিক্রম করেছে।
এবার, আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি মনিটাইজেশনের জন্য এপ্লাই করুন। আশা করি AdSense Approved হতে সমস্যা হবার কথা না। এরপর নিয়মতি ভিডিও আপলোড করে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার ধারাবাহিকতা চালিয়ে যেতে পারবেন।
প্রাসঙ্গিক লেখাটি পড়ে নিন-
ছবি তুলে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে ইনকাম করার উপায়
আপনার মোবাইলটি দিয়ে ছবি তুলেও বেশ ভালো অংকের একটা অর্থ নিয়মিতই অনলাইনে আয় করতে পারবেন। অনলাইনে বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি যে কোন ভালো মানের স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তুলে সেগুলো বিক্রি করার ব্যবস্থা করতে পারবেন।
বর্তমানে ইন্টারনেট জুড়ে এমন অসংখ্য ওয়েবসাইট পাওয়া যায় যেখানে আপনি ইচ্ছে করলেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে নিজের জন্য একটি একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন। Adobe Stock, Fotolia.Com, Alamay.Com, Shutterstock.com, IstockPhoto.Com তেমনি কিছু ছবি বিক্রি করে অনলাইনে আয় করার ওয়েবসাইট।
এই ওয়েবসাইটগুলোতে সম্পূর্ণ ফ্রিতেই রেজিস্ট্রেশন করা যায়। আজই নিজের জন্য একটি একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করে নিন। এরপর নিয়মিত আপনার একাউন্টে লগইন করে ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠাতার বেঁধে দেয়া নিয়ম অনুসরণ করে তাদের ওয়েবসাইটে ছবি আপলোড করে বিক্রি করতে পারবেন।
এতে করে ছবি বিক্রির বেশ ভালো একটা পার্সেন্টেজ আপনার একাউন্টে নিয়মিত জমা হতে থাকবে; যা কিনা পরবর্তীতে আপনি পেপাল, পেওনিয়ার বা এই ধরণের পেমেন্ট প্রসেসিং সার্ভিস ব্যবহার করে নিজের ব্যাংক একাউন্ট ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন।