মেট্রোরেলে চলাচলের নিয়ম এবং বিস্তারিত গাইডলাইন

ঢাকা শহরের যানজট একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই বাংলাদেশ সরকার মেট্রোরেল চালু করেছে। মেট্রোরেল শুধু দ্রুতগামীই নয়, এটি নিরাপদ, আরামদায়ক এবং পরিবেশবান্ধব একটি পরিবহন ব্যবস্থা। এটি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে এবং যাত্রীদের সময় ও শক্তি বাঁচাচ্ছে।

আজকের এই লেখায় আমরা মেট্রোরেলের পরিচিতি, টিকিট সংগ্রহ, প্রবেশ ও চলাচলের নিয়ম সহ সবকিছু বিস্তারিতভাবে জানব।

সূচীপত্র show

বাংলাদেশ মেট্রোরেলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ঢাকা মেট্রোরেল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় দ্রুতগামী গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প, যা ঢাকার যানজট সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হয় ২০০৫ সালে, যখন বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) তৈরি করা হয়। এই পরিকল্পনাতে ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তীতে, ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট তথা মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করে। ২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

বর্তমানে মেট্রোরেলের চালু থাকা রুট এবং স্টেশনের তালিকা

বর্তমানে এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১০ কিলোমিটার রুট চালু রয়েছে। এই রুটে মোট ১৭টি স্টেশন রয়েছে। স্টেশনগুলোর নামে নিচে উল্লেখ করা হলো।

  1. উত্তরা উত্তর
  2. উত্তরা সেন্টার
  3. উত্তরা দক্ষিণ
  4. পল্লবী
  5. মিরপুর ১১
  6. মিরপুর ১০
  7. কাজীপাড়া
  8. শেওড়াপাড়া
  9. আগারগাঁও
  10. বিজয় সরণি
  11. ফার্মগেট
  12. কারওয়ান বাজার
  13. শাহবাগ
  14. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  15. সচিবালয়
  16. মতিঝিল
  17. কমলাপুর

প্রথম পর্যায়ে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ সালে উদ্বোধন করা হয়, এবং ৫ নভেম্বর ২০২৩ সালে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশ চালু হয়।

মেট্রোরেল নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ঢাকা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য আরও কয়েকটি লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের। যেমনঃ

  • এমআরটি লাইন-১: এই লাইনটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পাতাল পথে (রাশিয়ান কায়দায়, মাটির নিচ দিয়ে) নির্মিত হবে। এছাড়া নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়াল পথে সম্প্রসারিত হবে। মোট দৈর্ঘ্য হবে ৩১.২৪ কিলোমিটার।
  • এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর): হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনটি উড়াল ও পাতাল পথের সমন্বয়ে নির্মিত হবে। এতে ১৪টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি পাতাল পথে এবং ৫টি উড়াল পথে।
  • এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ): গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনটি পাতাল ও উড়াল পথের সমন্বয়ে নির্মিত হবে। এতে ১৫টি স্টেশন থাকবে।
  • এমআরটি লাইন-২: গাবতলী থেকে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনটি উড়াল ও পাতাল পথের সমন্বয়ে নির্মিত হবে।
  • এমআরটি লাইন-৪: কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকার যানজট সমস্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।

মেট্রোরেলে টিকিট কাটার নিয়ম

বাংলাদেশের মেট্রোরেলে ‘একক যাত্রার টিকিট’ এবং ‘এমআরটি পাস’ নামে দুই ধরনের টিকিট ব্যবস্থা রয়েছে।

একক যাত্রার (Single Journey) টিকিট

একক যাত্রার টিকিট হলো একবারের জন্য ব্যবহারযোগ্য টিকিট। আপনি আপনার গন্তব্য স্টেশন অনুযায়ী টিকিট কিনতে পারবেন। টিকিটের মূল্য ২০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।

টিকিট কাউন্টার থেকে ম্যানুয়ালি অথবা অটোমেটেড টিকিট মেশিন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই টিকিট সংগ্রহ করা যায়।

ম্যানুয়ালি টিকিট কাটার জন্য, টিকিট কাউন্টারে গিয়ে আপনার গন্তব্য স্টেশন বলুন এবং টিকিট কিনুন। টাকা ক্যাশ বা কার্ডে দিতে পারবেন।

অটোমেটেড টিকিট মেশিনে টিকিট কাটতে চাইলে, প্রথমে যেকোনো একটা মেশিনে ইংরেজি বা বাংলায় ভাষা নির্বাচন করুন, গন্তব্য স্টেশন এবং টিকেট সংখ্যা সিলেক্ট করুন এবং নগদ বা কার্ডে পেমেন্ট করুন।

গন্তব্যে পৌছানোর পর এই কার্ডটি আপনাকে অবশ্যই জমা দিয়ে যেতে হবে।

এমআরটি পাস (MRT Pass) বা স্মার্ট কার্ড

যাতায়াতের জন্য দৈনিক মেট্রোরেল ব্যবহারের প্রয়োজন পড়লে আপনার জন্য এমআরটি পাস বা স্মার্ট কার্ড একটি সুবিধাজনক অপশন। এই কার্ড থাকলে আপনাকে বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হবে না এবং ভাড়াও কিছুটা কম পড়বে।

মাসিক পাসের মূল্য ২,০০০ টাকা এবং ডেইলি পাসের মূল্য ৩০০ টাকা। এই পাসগুলো টিকিট কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যায়। তারপর প্রয়োজন সাপেক্ষে রিচার্জ করে ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত যাত্রীরা এই পাস ব্যবহার করে মাসে প্রচুর টাকা সাশ্রয় করতে পারেন।

অনলাইনে মেট্রোরেলের টিকিট কাটার নিয়ম

ভবিষ্যতে সরকার “ঢাকা মেট্রো” নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করবে, যার মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। এই সুবিধা চালু হলে যাত্রীরা আরও সহজে টিকিট কিনতে পারবেন। অনলাইনে টিকিট কিনতে হলে আপনাকে অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং পেমেন্ট করার পর টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। এই পদ্ধতি যাত্রীদের জন্য আরও সুবিধাজনক হবে।

মেট্রোরেলে প্রবেশ ও যাত্রা করার নিয়ম

মেট্রোস্টেশনে প্রবেশের পদ্ধতি

মেট্রোরেলে প্রবেশ করতে হলে প্রথমে টিকিট বা স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

Model: Atikur Rahman Rajib

এরপর প্রবেশ গেটে টিকিট বা কার্ড ট্যাপ করুন। গেট খুলে গেলে ভিতরে প্রবেশ করুন এবং প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করুন। প্রবেশ গেটে টিকিট বা কার্ড ট্যাপ করার পর গেট খুলে যাবে এবং আপনি ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রবেশ করার পর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করুন এবং ট্রেন আসার পর ট্রেনে উঠুন।

মেট্রোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যাগ স্ক্যানিং

মেট্রোরেলে প্রবেশের আগে সকল যাত্রীকে নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আপনার ব্যাগ এক্স-রে মেশিনে স্ক্যান করাতে হবে এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পার হতে হবে। বিপজ্জনক জিনিস যেমন ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র বা জ্বালানি নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।

নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় আপনার ব্যাগ স্ক্যান করাতে হবে এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পার হতে হবে। যদি কোনো বিপজ্জনক জিনিস পাওয়া যায়, তাহলে আপনাকে জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

মেট্রো প্ল্যাটফর্মে অবস্থান ও নিয়মাবলী

প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করার সময় লাইনে দাঁড়ান এবং ট্রেন আসার পর দরজার দুই পাশে সঠিকভাবে অবস্থান নিন।

আগে যাত্রীদের নামতে দিন, তারপর আপনি ট্রেনে উঠুন।

ট্রেনে প্রবেশ করার পর বসুন বা দাঁড়ান এবং সংরক্ষিত আসনগুলো গর্ভবতী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য ছেড়ে দিন।

মেট্রোর ভেতরে যাত্রীদের জন্য নির্দেশিকা

ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিয়ম

মেট্রোরেল একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা। এর ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রতিটি যাত্রীর দায়িত্ব। ট্রেনে প্রবেশ করার পর যাত্রীদের উচিত নির্দিষ্ট আসনে বসা বা দাঁড়ানো। উচ্চস্বরে কথা বলা, মোবাইলে কথা বলা বা মিউজিক শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এছাড়াও, ট্রেনের ভেতরে ধূমপান, খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ট্রেনের আসন, দরজা বা অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট করা বা দূষিত করা যাবে না। প্রতিটি যাত্রীর উচিত অন্যান্য যাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা করা।

শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট এবং সাইনবোর্ডের মাধ্যমে যাত্রীদের সচেতন করে। কোনো যাত্রী নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ভ্রমণের সময় কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না

মেট্রোরেলে ভ্রমণের সময় কিছু কাজ করা যাবে এবং কিছু কাজ করা যাবে না। যেসব কাজ করা যাবে তার মধ্যে রয়েছে:

  • ট্রেনের ভেতরে শান্তিপূর্ণভাবে বসা বা দাঁড়ানো।
  • অন্যান্য যাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা।
  • সংরক্ষিত আসনগুলো গর্ভবতী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং শিশুদের জন্য ছেড়ে দেওয়া।
  • জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনের স্টাফ বা অন্যান্য যাত্রীদের সহায়তা করা।

যেসব কাজ করা যাবে না তার মধ্যে রয়েছে:

  • উচ্চস্বরে কথা বলা বা মোবাইলে কথা বলা।
  • খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা।
  • ধূমপান করা বা মাদক সেবন করা।
  • ট্রেনের সরঞ্জাম নষ্ট করা বা দূষিত করা।
  • অন্যান্য যাত্রীদের বিরক্ত করা বা অসামাজিক আচরণ করা।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে মেট্রোরেলের পরিবেশ সুস্থ ও সুন্দর থাকবে এবং সকল যাত্রীরা নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা করতে পারবেন।

বিশেষ আসনের ব্যবহার (বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, মহিলা ও শিশুদের জন্য)

মেট্রোরেলের প্রতিটি ট্রেনে বিশেষ আসন রয়েছে যা গর্ভবতী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং শিশুদের জন্য সংরক্ষিত। এই আসনগুলো সাধারণ যাত্রীদের জন্য নয়। সুস্থ যাত্রীদের উচিত এই আসনগুলো এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে এই আসনগুলো গর্ভবতী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং শিশুদের জন্য ছেড়ে দেওয়া।

বিশেষ আসনগুলো ট্রেনের নির্দিষ্ট স্থানে চিহ্নিত করা থাকে এবং সেগুলো ব্যবহার করার সময় অন্যান্য যাত্রীদের সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ আসনগুলো ব্যবহার করার সময় যাত্রীদের উচিত অন্যান্য যাত্রীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা এবং প্রয়োজনে সাহায্য করা।

মেট্রোরেল থেকে নামার নিয়ম

স্টেশনে নামার সময় করণীয়

মেট্রোরেল থেকে নামার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। ট্রেন থামার পর দরজার কাছে যান এবং ধীরে ধীরে নামুন।

ট্রেন থেকে নামার পর প্ল্যাটফর্মে সঠিকভাবে অবস্থান নিন এবং এক্সিট গেটের দিকে এগিয়ে যান। এক্সিট গেটে টিকিট বা স্মার্ট কার্ড ট্যাপ করুন এবং স্টেশন থেকে বের হয়ে যান। নামার সময় যাত্রীদের উচিত শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অন্যান্য যাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা।

টিকিট বা স্মার্ট কার্ড ট্যাপ করার নিয়ম

মেট্রোরেল থেকে নামার পর এক্সিট গেটে টিকিট বা স্মার্ট কার্ড ট্যাপ করতে হবে। টিকিট বা কার্ড ট্যাপ করার পর গেট খুলে যাবে এবং আপনি স্টেশন থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন। যদি টিকিট বা কার্ড ট্যাপ না করেন, তাহলে গেট খুলবে না এবং আপনাকে পুনরায় টিকিট বা কার্ড ট্যাপ করতে হবে।

এক্সিট গেটে টিকিট বা কার্ড ট্যাপ করার পর গেট খুলে যাবে এবং আপনি স্টেশন থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন। টিকিট বা কার্ড ট্যাপ করার সময় যাত্রীদের উচিত শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অন্যান্য যাত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা।

জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়

দুর্ঘটনা বা সমস্যার ক্ষেত্রে করণীয়

মেট্রোরেলে যাত্রার সময় কোনো দুর্ঘটনা বা সমস্যা দেখা দিলে স্টেশনের স্টাফ বা নিরাপত্তা কর্মীদের জানাতে হবে। ট্রেনের ভেতরে ইমারজেন্সি বোতাম রয়েছে, যা চাপলে ট্রেনের স্টাফরা সাহায্যের জন্য আসবেন।

যদি কোনো যাত্রীর মেডিকেল ইমারজেন্সি হয়, তাহলে নিকটস্থ স্টেশনে অবিলম্বে রিপোর্ট করতে হবে। প্রতিটি ট্রেনে ফার্স্ট এইড বক্স রয়েছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।

দুর্ঘটনা বা সমস্যার ক্ষেত্রে যাত্রীদের উচিত শান্ত থাকা এবং স্টাফ বা নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলা।

স্টেশনের জরুরি এক্সিট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রতিটি স্টেশনে জরুরি এক্সিট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্টেশনের জরুরি এক্সিট ব্যবহার করে নিরাপদে বের হয়ে যেতে হবে।

স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরা যাত্রীদের সাহায্য করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকেন। জরুরি পরিস্থিতিতে স্টেশনের স্টাফ বা নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

জরুরি এক্সিট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতন থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে এই ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার করা উচিত।

মেট্রোরেলের ভাড়া এবং সময়সূচি

ভাড়া নির্ধারণের পদ্ধতি

মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় গন্তব্য স্টেশন অনুযায়ী। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভাড়া ২০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। ভাড়া নির্ধারণের পদ্ধতি সহজ এবং স্বচ্ছ। প্রতিটি স্টেশনে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শিত হয়, যা যাত্রীরা দেখে নিতে পারেন। ভাড়া নির্ধারণের সময় যাত্রীদের উচিত গন্তব্য স্টেশন এবং ভাড়ার তালিকা চেক করে নেওয়া।

মেট্রোরেলের দৈনিক সময়সূচি

মেট্রোরেলের দৈনিক সময়সূচি সকাল ৭:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত। এই সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেনগুলো নির্দিষ্ট সময় পর পর চলাচল করে। যাত্রীদের উচিত সময়সূচি মেনে চলা এবং সময়মতো স্টেশনে উপস্থিত হওয়া। সময়সূচি সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতন থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে সময়সূচি চেক করে নেওয়া উচিত।

সরকারি ছুটির দিনে পরিবর্তিত সময়সূচি

সরকারি ছুটির দিনে মেট্রোরেলের সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। এই দিনগুলোতে ট্রেনের সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। যাত্রীদের উচিত সরকারি ছুটির দিনে সময়সূচি আগে থেকে চেক করে নেওয়া। সরকারি ছুটির দিনে যাত্রীদের উচিত সময়সূচি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে সময়সূচি চেক করে নেওয়া।

মেট্রোরেল ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা

মেট্রোরেলের সুবিধাসমূহ

মেট্রোরেল ব্যবহারের অনেক সুবিধা রয়েছে। এটি দ্রুতগামী, নিরাপদ এবং আরামদায়ক। মেট্রোরেল ব্যবহার করে যাত্রীরা সময় ও শক্তি বাঁচাতে পারেন। এছাড়াও, মেট্রোরেল পরিবেশবান্ধব এবং যানজট কমাতে সাহায্য করে। মেট্রোরেলের সুবিধাগুলো সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতন থাকা উচিত এবং এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করা উচিত।

সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও অসুবিধা

মেট্রোরেল ব্যবহারের কিছু চ্যালেঞ্জ ও অসুবিধাও রয়েছে। যেমন, ভিড়ের সময় ট্রেনে স্থান সংকুলান না হওয়া, টিকিট সংগ্রহে সমস্যা এবং নতুন ব্যবস্থা হওয়ায় কিছু যাত্রীর জন্য অভ্যস্ত হতে সময় লাগতে পারে।

তবে, এই চ্যালেঞ্জগুলো সময়ের সাথে সাথে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। মেট্রোরেলের চ্যালেঞ্জ ও অসুবিধাগুলো সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতন থাকা উচিত এবং এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

শেষকথা

মেট্রোরেল বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এটি শুধু দ্রুতগামীই নয়, নিরাপদ এবং আরামদায়কও বটে। নিয়ম মেনে চললে মেট্রোরেল ব্যবহার করা খুব সহজ এবং সুবিধাজনক।

আসুন, আমরা সবাই মিলে মেট্রোরেলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করি এবং একটি সুন্দর ও যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলি। মেট্রোরেল ব্যবহার করে আমরা আমাদের সময় ও শক্তি বাঁচাতে পারি এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি। মেট্রোরেলের নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনে চললে আমরা সকলেই একটি সুন্দর ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পারি।

Leave a Comment