বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নানান রকম সহায়তা প্রদান করে আসছে। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা অন্যতম। আগে এই ভাতা পেতে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। কিন্তু এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের এই যুগে অনলাইনে খুব সহজেই প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করা যায়। এই ব্লগে আমরা ধাপে ধাপে অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করব।
তাহলে চলুন, শুরু করি।
প্রতিবন্ধী ভাতা কী এবং কারা পাবেন?
প্রতিবন্ধী ভাতা হলো সরকারের একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই ভাতা পেতে আবেদনকারীকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন:
১. প্রতিবন্ধী সনদ থাকা আবশ্যক: আবেদনকারীকে অবশ্যই সরকারি স্বীকৃত প্রতিবন্ধী সনদ থাকতে হবে।
২. আর্থিক সীমা: পরিবারের মাসিক আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে (সাধারণত দরিদ্র বা নিম্ন আয়ের পরিবারকে এই ভাতা দেয়া হয়)।
৩. বয়স: সাধারণত ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই ভাতা পান, তবে কিছু ক্ষেত্রে শিশু প্রতিবন্ধীরাও এই সুবিধা পেয়ে থাকে।
প্রতিবন্ধি ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অনলাইনে আবেদন করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো অবশ্যই রেডি রাখতে হবে। যেমন:
১. প্রতিবন্ধী সনদ (সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাওয়া যায়)।
২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (বয়স ১৮ এর নিচে হলে)।
৩. মোবাইল নম্বর (যে নম্বরটি আবেদনের সময় ব্যবহার করবেন)।
৪. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর (যে অ্যাকাউন্টে আপনি ভাতার টাকা পেতে চান)।
৫. পাসপোর্ট সাইজের ছবি (ডিজিটাল ফরম্যাটে)।
অনলাইনে প্রতিবন্ধি ভাতা আবেদন করার ধাপসমূহ
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ওয়েবসাইট অথবা ই-সেবা পোর্টাল এ যান। এই পোর্টালগুলোর মাধ্যমে অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করা যায়।
ধাপ ২: একাউন্ট তৈরি করুন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর “নতুন ব্যবহারকারী” হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করুন। আপনার মোবাইল নাম্বর, ইমেইল আইডি এবং অন্যান্য তথ্য দিয়ে একাউন্ট তৈরি করুন। একাউন্ট তৈরি করার পর লগইন করুন।
ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
লগইন করার পর “প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন” অপশনটিতে ক্লিক করুন। তারপর আবেদন ফর্মে যথাক্রমে নিচের তথ্যগুলো পূরণ করুন:
- ব্যক্তিগত তথ্য: নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ইত্যাদি।
- প্রতিবন্ধী সনদ নম্বর: আপনার প্রতিবন্ধী সনদের নম্বর দিন।
- যোগাযোগের তথ্য: মোবাইল নম্বর, ইমেইল আইডি এবং বর্তমান ঠিকানা।
- ব্যাংক তথ্য: আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং ব্যাংকের নাম।
ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন
আবেদন ফর্ম পূরণ করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করুন। কাগজপত্রের স্ক্যান কপি পেতে আপনার আশেপাশের কম্পিউটারের দোকানে যেতে পারেন বা বিভিন্ন মোবাইল এ্যাপ দিয়েও এটা করা যায়। নিম্নলিখিত কাগজগুলোর স্ক্যান কপি লাগবে।
- প্রতিবন্ধী সনদ
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
ধাপ ৫: আবেদন জমা দিন
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আবেদন ফর্মটি জমা দিন। আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি রেফারেন্স নম্বর পাবেন। এই নম্বরটি অবশ্যই সযত্নে সংরক্ষণ করতে হবে, কারণ এটি দিয়েই কিন্তু আপনি পরে আপনার এই আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন!
আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করা
আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনি অনলাইনে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। এর জন্য ওয়েবসাইটে লগইন করে “আবেদনের স্ট্যাটাস” অপশনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার রেফারেন্স নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করুন। বলে রাখা ভালো, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে।
প্রতিবন্ধী ভাতা সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
প্রতিবন্ধী সনদ পেতে আপনাকে সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে। সেখানে একজন চিকিৎসক আপনার প্রতিবন্ধীতার ধরন ও মাত্রা যাচাই করে সনদ প্রদান করবেন।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে প্রথমে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন। প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
আবেদন বাতিল হলে কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। সাধারণত ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্টের কারণে আবেদন বাতিল হয়।
আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছু সময় লাগে। যদি আপনার আবেদন সফল হয়, তাহলে সাধারণত পরবর্তী মাস থেকে ভাতা পেতে শুরু করবেন। ভাতার টাকা সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ মাসিক ৮৫০ টাকা। তবে সরকারের নীতিমালা পরিবর্তনের সাথে সাথে এই পরিমাণ বাড়তে পারে।