ইদানিং ডায়েট শব্দটার সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত। আবার ডায়েট করছেনও অনেকে। অনেকে নিয়ম মেনে ডায়েট করছে, অনেকে নিয়ম ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমত ডায়েট করে চলেছে কোনোরকম চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই।
মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হচ্ছে,সেই সাথে বেশির ভাগ মানুষই ভুগছে ওজন জনিত সমস্যায়। ওজন বাড়ার ফলে মানুষ অনেক রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। একটি কথা প্রচলিত আছে- বাঙালিরা ” মাছে ভাতে বাঙালি”।
ভাত না খেলে বাঙালিদের পেট ভরে না। কেননা এটা জন্মসুত্র পরম্পরায় অভ্যাস হয়ে আসছে। একটু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ বর্তমানে ভাতের নাম শুনেই চোখ মুখ কুচকে নেয়। আর যেকোনো রোগের জন্য আগে দোষ চাপানো হয় ভাতের উপর। বেচারা ভাত তখন থেকেই অবহেলিত, অপছন্দের খাদ্য তালিকায় চলে যায়।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেই যে ওজন কমে যাবে, এমন ধারণা একেবারেই ভুল। ভাত খেলেই ওজন বাড়ে সে ধারণাও একদমই ভুল। ভাত খাওয়াও আমাদের শরীরের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।
পাশাপাশি ভাতের মাড়ের উপস্থিতি শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক। ধারণা করা হয়, এটি ক্যান্সার রোগ প্রতিকার করতে অনেকটাই ভূমিকা পালন করে। অবাক করা বিষয় হলো এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনে। ধানে কিছু উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে যা কোনও ব্যক্তিকে কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে সহায়তা করে। এটি স্থূলত্ব থেকে আটকায়। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট এবং কোলেস্টেরল রয়েছে।
আপনি কতটুকু পরিমাণে ভাত খাবেন তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক পরিশ্রমের উপর। যদি আপনার মনে হয় আপনি পরিমাণে বেশি ভাত খান, তবে আপনি সাদা ভাতের পরবর্তীতে ব্রাউন রাইস খেতে পারেন।
১০০ গ্রাম সাদা ভাতে পুষ্টির পরিমাণ ক্যালোরি: ৩৫৭ কিলো ক্যালোরি, প্রোটিন: ৮ গ্রাম, ফ্যাট: ০.৫ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট: ৭৮ গ্রাম, ফাইবার: ২.৮ গ্রাম (২ গ্রাম সলিউবল ফাইবার ও ০.৮ গ্রাম ইনসলিউবল ফাইবার) আছে।
ভাত খাওয়ার সঙ্গে ফাইবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি কিংবা ফলমূলে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে। যার ফলে শরীরে পুষ্টির একটা ঘাটতি তৈরি হয়। তাই পরিমাণ মত করে ভাত খেতে হবে।
শুধু তাই নয় ভাতে যে পরিমাণে স্টার্চ রয়েছে তা শরীরে সঞ্চিত গ্লুকোজকে ভেঙে রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায়। তাই ডায়বেটিকদের পরিমাণ অনুযায়ী ভাত খাওয়া প্রয়োজন, যা ফাইবার এর ভূমিকা পালন করে।
এবার প্রশ্ন থাকে, ঠিক কখন ভাত খাওয়া বেশি উপকারী? আপনি যদি রোগা হন, তবে রাতে ভাত খেতে কোনও সমস্যা নেই। সেক্ষেত্রে ওজন বাড়ারও কোনো সমস্যা নাই। তবে আপনার ওজন বেশি হলে বিকেলের দিকে ভাত খান। কারণ বিপাক কার্য বিকেলের দিকে ভালো হয়।
অনেকে ওজন বাড়ছে বলে রাতে ভাত খাওয়া বাদ দিয়ে রুটি খাওয়া শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে রাতে কার্বহাইড্রেট জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস যাদের রয়েছে তাদেরও এটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত রাতের খাবারের ক্ষেত্রে। বেশি ক্ষুদা অনুভব হলে আকারে ছোট একটি রুটি খেতে পারে।
এখন আসা যাক, ডায়েটে ভাতের ব্যাপারে, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোশিয়েশন কি বলে তা একটু জেনে নিই। তাদের মতে, অল্প পরিমাণে ভাত খেলে ওজন বাড়ে না। উচ্চ রক্তচাপ, মেটাবলিক সিনড্রোম ও কোমরের মাপ বাড়ার আশঙ্কা কমে। তাই শরীর ভালো রাখতে সারা দিনে ১৫০ গ্রামের মতো ভাত খেতে পারেন।
যারা ডায়েট করছেন তারা ভাতকে একদম বাদ দিবেন না। আপনি ভাতকে বাদ দিয়ে ওজন কমাতে পারবেন না।
ওজন কমাতে হলে শারীরিক পরিশ্রম প্রয়োজন। অবশ্যই দিনে ২ ঘন্টা করে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ভাত না খেয়ে বাইরের যেকোনো খাবারে খেলেই তাতে তেল এর পরিমাণ থাকবে বেশি। আপনাদের তৈলাক্ত খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে ফ্যাট হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। যে কোনো খাবার খাওয়ার সময় সেটা পরিমাণ মত খেতে হবে। অতিরিক্ত যেকোনো খাবারই মেদ জমতে সহায়তা করে।
খাবার পর হাঁটার অভ্যেস করতে হবে। এতে মেদ কমে, হজমও হয় খাবার। তাই ডায়েট করতে গেলে একেবারে খাবার বাদ দেবার প্রয়োজন নেই। দুপুর বেলা ভাতটা আপনাদের খাদ্য তালিকায় রাখুন। নিজেকে রোগা করতে গিয়ে রোগ বাধিয়ে বসা যাবে না। তারপরও পরামর্শ নিন চিকিৎসকের।
Featured Photo by Jamie Matociños on Unsplash
প্রয়োজন মনে হলে পড়ে দেখতে পারেন-